ভারত থেকে রফতানি হওয়া পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কয়েক ঘণ্টা পরে বুধবার (আমেরিকার সময়ে) পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেলার কথা ঘোষণা করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, পাকিস্তানে সঞ্চিত ‘বিশাল তৈলভান্ডার’-এর উন্নতির জন্য হাত মিলিয়ে কাজ করবে আমেরিকা। তিনি তার মালিকানাধী সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রথ সোশালে’ এ-ও লিখেছেন যে, এক দিন ভারতকেও তেল ক্রয় করা লাগতে পারে পাকিস্তান থেকে।
কিছুদিন আগে পাকিস্তানের সরকারি তেল এবং গ্যাস উন্নয়ন সংস্থা (ওজিডিসিএল) সিন্ধ প্রদেশে খনিজ তেল এবং গ্যাসের ভান্ডার খুঁজে পেয়েছে। গত এক বছরে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশ এবং খাইবার পাখতুনখোয়াতেও তেল এবং গ্যাসের ভান্ডার খুঁজে পেয়েছে ওজিডিসিএল। তিন বছর ধরে সমীক্ষা চালানোর পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান এই বিশাল ভান্ডারের খোঁজ মিলেছে বলে খবর। কিছু সমীক্ষা বলছে, পাকিস্তানে যে তেল এবং গ্যাসের সঞ্চয়ের সন্ধান মিলেছে, তা নেহাত কম নয়। পৃথিবীতে যে দেশগুলিতে সবচেয়ে বেশি খনিজ তেলের ভান্ডার রয়েছে, সেগুলি হল ভেনেজ়ুয়েলা, সৌদি আরব, ইরান। কিছু সমীক্ষায় দাবি, এই তিনটি দেশের পরে চতুর্থ স্থানে থাকতে পারে পাকিস্তান।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানে যে বিশাল তৈলভান্ডার রয়েছে, তার উন্নতির জন্য ওয়াশিংটন এবং ইসলামাবাদ যৌথ ভাবে কাজ করবে। ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, “আমরা এইমাত্র পাকিস্তানের সঙ্গে একটা চুক্তি সেরে ফেললাম। চুক্তি অনুযায়ী সে দেশের বিশাল তৈলভান্ডারের উন্নতিতে পাকিস্তান এবং আমেরিকা যৌথ ভাবে কাজ করবে।” একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সংযোজন, “কে বলতে পারে, হয়তো পাকিস্তান এক দিন ভারতকে তেল বিক্রি করবে।” ওই পোস্টেই ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের এই বোঝাপড়ায় কোন তেল উত্তোলনকারী সংস্থা নেতৃত্ব দেবে, তা তাঁর প্রশাসন ঠিক করবে। দুই দেশ যৌথ ভাবে কাজ করলে আমেরিকাকে তেল দিয়ে বিনিময়ে অর্থ (পেট্রোডলার) পেতে পারে পাকিস্তান।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন